10:01 PM
|
By sofiq
হাজার বছর আগে চাইনিজদের আবিস্কৃত গান পাউডার বদলে দেয় সমরাস্ত্রের ধরন। তখনকার দিনে গ্রেনেড বোমায় ব্যবহৃত হত গান পাউডার। তবে সেগুলো খুব একটা উন্নতমানের এবং নির্ভরযোগ্য ছিলনা। আর সকল প্রযুক্তির সাথে সাথে গ্রেনেডেরও উন্নয়ন ঘটানো হয়। ধীরে ধীরে এক সময় এসে এটি পূর্নতা পায়। বর্তমানে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয় এবং নির্ভরযোগ্য একটি অস্ত্র।

কার্যপ্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে গ্রেনেড প্রধানত দুই ধরনেরঃ
Time-Delay Grenade
এই ধরনের গ্রেনেডকে হ্যান্ড গ্রেনেডও বলা হয়। ১৯ শতকের ভয়াবহ যুদ্ধ সমূহে এ জাতীয় গ্রেনেড ব্যপক হারে ব্যবহৃত হয়েছে। টাইম ডিলেয় গ্রেনেড গুলো সাধারনত সেফটি পিন খুলে হাত দিয়ে ছুঁড়ে মারা হয় এবং একটি নির্দিস্ট সময় পর এটি বিস্ফোরিত হয়। এই সময়টি সাধারনত হয় ৩-৪ সেকেন্ড। তবে কোন কারনে ভিতরের রাসায়নিক পদার্থের গুনগতমানের পরিবর্তন ঘটলে এই সময় কম-বেশি ২-৮ সেকেন্ড হতে পারে।




যেভাবে কাজ করেঃ Time-Delay গ্রেনেডগুলো সাধারনত খাঁজকাটা লোহার ধারক দিয়ে তৈরি হয়। এর ভেতরে একটি ফিউজ মেকানিজম থাকে এবং বাকি অংশে থাকে বিস্ফোরক পদার্থ। ফিউজ মেকানিজম সক্রিয় করার জন্য থাকে একটি Striker যেটি Striker Lever দিয়ে আটকানো থাকে। আর লিভারটি ধরে রাখার জন্য এতে লাগানো থাকে একটি নিরাপত্তা পিন। পিনটি খুলে দিলে Striker কে ধরে থাকা লিভারটি চাপমুক্ত হয় এবং Striker ছুটে গিয়ে আঘাত করে Percussion Cap এ। এরপর এটি কেমিক্যাল মেকানিজমকে সক্রিয় করে দেয় যা কয়েক সেকেন্ড পর ডেটোনেটরকে সক্রিয় করে। ডেটোনেটর গ্রেনেড এর ভেতরে থাকা বিস্ফোরক পদার্থ সমূহকে ডেটোনেট করে এবং বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।
Impact Grenade
এ জাতীয় গ্রেনেড এর কার্যপ্রক্রিয়া অনেকটা উড়োজাহাজ থেকে ছুঁড়ে মারা বোমার মত। অর্থাৎ এই গ্রেনেড টার্গেটকে স্পর্শ করার পর পরই বিস্ফোরিত হয়। Impact Grenade হাত দিয়ে নিক্ষেপ করা হয় না। এটি সাধারনত গ্রেনেড লাঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়াও এক ধরনের মেশিনগান রয়েছে যেটিতে সাধারন বুলেট এর বদলে ব্যবহৃত হয় ইম্প্যাক্ট গ্রেনেড বুলেট!




যেভাবে কাজ করেঃ Impact Grenade এর সম্মুখভাগে Impact Trigger নামে একটি অংশ থাকে এবং এটি স্প্রীং দিয়ে মূল কাঠামোর সাথে সংযুক্ত করা থাকে। গ্রেনেড যখন নিক্ষেপ করা হয় তখন Percussion Cap এবং Detonator কে ধরে থাকা স্প্রীংটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়। গ্রেনেডের সামনের অংশ অর্থাৎ ইমপ্যাক্ট ট্রিগার যখন টার্গেটকে স্পর্শ করে তখন এর সাথে লাগানো Firing Pin টি Percussion Cap কে আঘাত করে এবং ডেটনেটরটি সক্রিয় হয়ে মূল বিস্ফোরককে ডিটোনেট করে দেয়। তারপরই গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়। এই গ্রনেড টাইম ডিলেয় গ্রনেড এর মত সময় নেয় না, বরং টার্গেটকে আঘাত করার সাথে সাথেই বিস্ফোরিত হয়।
মূলত এই দুই ধরনের গ্রেনেডই রয়েছে এবং এর কার্যপ্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে আরও বিভিন্ন ধরনের গ্রেনেড তৈরি করা হয়।
এই পোস্টে মূলত গ্রনেড কিভাবে কাজ করে এ সম্পর্কে ধারনা দিতে চেস্টা করেছি আমার সীমিত জ্ঞান থেকে। তবে মারনাস্ত্র তৈরি ও এ সম্পর্কিত গবেষনাকে আমি বরাবরই ঘৃনা করি। এগুলো একটি সভ্যতাকে ধংস করে দেয়ার হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।
9:56 PM
|
By sofiq
প্যারাশুট এক ধরনের বস্তু যা পড়ন্ত বা ছুটন্ত অপর কোন ব্যক্তি বা বস্তুর গতি কমাতে সাহায্য করে। এটি সাধারনত উচ্চতা থেকে নিরাপদে ভূমিতে অবতরনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ভূমির সমতলে দ্রুতগতি সম্পন্ন কোন যানবাহনের গতি কমানোর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। প্যারাশুট শব্দটি একটি ফরাসি শব্দ থেকে থেকে এসেছে যার মধ্যে ‘প্যারা’ একটি ল্যাটিন উপসর্গ যার অর্থ ‘বিপরীতে’ বা ‘বিরুদ্ধে’। আর ‘শুট’ শব্দাংশটি একটি ফরাসি শব্দ যার অর্থ ‘পড়া’। পুরো অর্থ দাড়াচ্ছে ‘পড়ার বিরুদ্ধে’। উঁচু থেকে কোন কিছুর দ্রুত পতন রোধ করাই মূলত এর কাজ।

আবিস্কারের ইতিহাসঃ
প্রথম প্যারাশুটের আবিস্কার এবং ব্যবহার সম্পর্কে বেশ কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে খুবই নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র মতে এর আবিস্কারের ইতিহাস এরকম। নয় শ শতাব্দীতে প্রথম প্যারাশুটের একটি প্রাথমিক পর্যায় ডেভেলপ করেন Al-Andalus এবং Abbas Ibn Firnas নামক দুই ব্যাক্তি। এরপর চৌদ্দ শ শতাব্দীতে অনেকটা পিরামিড আকৃতির একটি প্যারাশুটের ছবি
আঁকেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। ক্যানোপিকে ধারন করার জন্য এই প্যারাশুটে কাঠের চারকোনা ফ্রেম ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ভিঞ্চির এই প্যারাশুটি আদৌ ব্যবহার অথবা পরীক্ষা করা হয়েছে, এমন কোন প্রমান মেলেনি। তবে এরও অনেক আগে বারো শ শতাব্দীতে চীনে শিশুদের আনন্দ দেয়ার জন্য ছাতা আকৃতির এক ধরনের প্যারাশুট ব্যবহৃত হতো। এটি দিয়ে কিছুটা উঁচু একটি স্থান থেকে লাফ দিয়ে নিরাপদে ভাসতে ভাসতে ভূমিতে নেমে আসা যেত। মূলত প্যারাশুটের উন্নয়ন এবং প্যারাশুট নিয়ে গবেষনা শুরু হয় আঠার শ শতাব্দীতে। Louis-Sébastien Lenormand প্রথম প্যারাশুটে চড়ে একটি গাছ থেকে লাফ দেন। এর দুই বছর পর J. P. Blanchard সিল্ক দিয়ে প্যারাশুট তৈরি করেন এবং এটিতে নমনীয় কাঠামো ব্যবহার করা হয়। এই সময়ে গরম বাতাস ভর্তি বেলুন থেকে প্যারাশুটের মাধ্যমে লাফ দিয়েছেন কেউ কেউ। ১৯১১ সালে Grant Morton প্রথম উড়োজাহাজ থেকে প্যারাশুট দিয়ে লাফ দেন।
গঠন ও কার্যপ্রনালীঃ
আকৃতিগত দিক দিয়ে প্যারাশুট মূলত দুই ধরনের হয়। একটা গোলাকৃতির এবং অপরটি অনেকটা বর্গ বা আয়াতাকৃতির। এগুলোর উপর ভিত্তি করে আরও কয়েক ধরনের প্যারাশুট তৈরি হয়েছে। যেমনঃ রিবন এন্ড রিং টাইপ, র্যাম এয়ার টাইপ ইত্যাদি।

প্রাথমিক অবস্থায় সিল্কের কাপড় দিয়ে তৈরি হতো প্যারাশুট। পরবর্তীতে এ কাজে টেকসই নাইলন এর কাপড়ের ব্যবহার শুরু হয়। এ ধরনের কাপড়গুলো পাতলা এবং হালকা হয়ে থাকে। এই কাপড়ের সাথে আটকানো থাকে সাস্পেনসন লাইন। সাস্পেনসন লাইন এসে যুক্ত হয় হার্নেস এর সাথে। মূল ভারকে বহন করে হার্নেস। প্যারাশুটের মাধ্যমে যখন কোন ব্যক্তি বা বস্তু উপর থেকে নামতে থাকে, তখন ক্যানোপি বা প্যারশুটের গোল অথবা বর্গাকৃতির কাপড়টিতে বাতাস লেগে উর্ধমূখী চাপের সৃস্টি হয়। ফলে সেই বস্তু বা ব্যক্তির পতনের গতি কমে যায় এবং নিরাপদে ভূমিতে অবতরন করতে পারে। আধূনিক প্যারাশুট গুলোতে কন্ট্রোল লাইন থাকে যা দিয়ে এর গতি এবং দিক নিয়ন্ত্রন করা যায়। নিচের চিত্রটি দেখলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে।

প্যারাশুট নিয়ে কিছু রেকর্ড ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ
প্যারাশুট দিয়ে সবচেয়ে উঁচু থেকে লাফ দিয়ে রেকর্ড সৃস্টি করেন Joseph Kittinger ১৯৬০ সালে। প্রায় ৩১ হাজার মিটার উপর থেকে তিনি লাফ দেন এবং এ উচ্চতায় উঠার জন্য ব্যবহার করেন একটি গরম বাতাস ভর্তি বেলুন।
এপোলো ১৫ তার চাঁদে অভিযান শেষে এর ক্যাপসুলটিকে পৃথিবীতে সমুদ্রের পানিতে অবতরনের সময় ব্যবহার করা হয় তিনটি প্যারাশুট। দূর্ভাগ্যবশত এর একটি প্যারাশুট পুরোপুরি খোলে না এবং বিকল হয়ে যায়।

তবে ক্যাপসুলটি নিরাপদেই অবতরন করতে পেরেছিল। কারন সেটি ডিজাইন করা হয়েছিল দুটি প্যারশুট দিয়ে অবতরনের উপযোগী করে। আর অপর প্যারাশুটটি রাখা হয়েছিল যদি কোন কারনে একটি প্যারাশুট বিকল হয়ে যায়, তখন যাতে সেই ব্যাকআপ প্যারাশুটটি ব্যাবহার করা যায়। আর ঘটেছিলও ঠিক তাই …
7:06 AM
|
By sofiq

উদ্বোধক
জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম সরকার
জেলা প্রশাসক, লক্ষ্মীপুর।
অতিথিবৃন্দ
জনাব তাজুল ইসলাম চৌধুরী
চেয়ারম্যান, ন্যাশানাল ডিবেট ফেডারেশন।
জনাব মোঃ কবির হোসেন শিশির
সভাপতি, লক্ষ্মীপুর ডিবেট ফেডারেশন।
জনাব প্রকৌশলী মোঃ আলাউদ্দীন
অধ্যক্ষ, লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
জনাব হোসাইন আহম্মদ হেলাল
সস্পাদক, দৈনিক নতুন চাঁদ।
জনাব ডাঃ আশফাকুর রহমান মামুন
সেন্ট্রাল কাউন্সিল সদ্যস, বিএমএ।
জনাব গোলে আলম চৌধুরী
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
জনাব দেবব্রত কুমার নাথ
একাডেমিক ইনচার্জ, লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
জনাব মোঃ আবু সায়েম মাসুম
সাধারণ সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর ডিবেট ফেডারেশন।